জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ বা অফিস অব ইন্টারনাল ওভারসাইট সার্ভিসেস (OIOS)-এর একটি সাম্প্রতিক অডিট রিপোর্টে বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (UNHCR)-এর রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রমে মারাত্মক অব্যবস্থাপনা, তহবিলের অপচয়, দুর্বল পরিকল্পনা এবং দুর্বল তদারকির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার এবং ভাসানচরে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর ওপর এই নিরীক্ষা চালানো হয়, যেখানে দেখা যায় যে সংকটের আট বছর পার হলেও তহবিলের সিংহভাগ দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিবর্তে কেবল জরুরি ত্রাণের পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে, যার একটি বড় অংশই অব্যবস্থাপনার কারণে অপচয় হয়েছে।
অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, উখিয়ায় ১.৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল সম্পূর্ণ অব্যবহৃত পড়ে আছে এবং ভাসানচরে ২ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জামসহ একটি ২০ শয্যার ইনপেশেন্ট সুবিধা ও ১৬৫,০০০ ডলারের একটি হেলথ ইনফরমেশন সিস্টেম অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পরিবর্তন করে মেডিকেল নিডল সরবরাহকারী একটি কালো তালিকাভুক্ত ভেন্ডরকে পরবর্তীতে ১.৮২ মিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তি প্রদান করা হয়েছে এবং ২৫ মিলিয়ন ডলারের এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বাজারমূল্যের চেয়ে ২৬% বেশি দর দেওয়ায় প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া একই স্থানে একাধিক পানির নেটওয়ার্ক ও পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করে প্রকল্পের পুনরাবৃত্তি, লাখ লাখ ডলারের অতিরিক্ত এলপিজি (LPG) গ্যাস ক্রয়, অব্যবহৃত যানবাহনের ভাড়া প্রদান এবং অনর্থক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের পেছনে অর্থ অপচয়ের প্রমাণ মিলেছে।
এই চরম অনিয়ম ও মহামারী মোকাবিলার পর্যাপ্ত পরিকল্পনার অভাবের বিষয়ে ইউএনএইচসিআর (UNHCR)-এর মুখপাত্র শারি নিজম্যান জানিয়েছেন, সংস্থাটি অডিটের সুপারিশগুলো আমলে নিয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ তদারকি ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা জোরদার করতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে

