বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবি, ২৫০ রোহিঙ্গার মৃত্যুর আশঙ্কা

নৌকার যাত্রীদের সবাই মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন। তাদের একটি বড় অংশ পৌকতাসহ উত্তর আরাকানের বিভিন্ন এলাকার নাগরিক।

উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার খোঁজে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা বোঝাই একটি নৌকাডুবির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্রগুলো জানায়, সমুদ্রযাত্রার এক পর্যায়ে উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, ঘটনার পর বেশ কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো জীবিত মানুষকে উদ্ধার করার খবর পাওয়া যায়নি। তবে কাছাকাছি একটি গ্রামের উপকূলে বেশ কয়েকটি মরদেহ ভেসে এসেছে বলে জানা গেছে। অবশ্য স্বাধীনভাবে এই তথ্যের সত্যতা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নৌকার যাত্রীদের সবাই মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন। তাদের একটি বড় অংশ পৌকতাসহ উত্তর আরাকানের বিভিন্ন এলাকার নাগরিক। বাকিরা রাথিডং, বুথিডং ও সিতওয়ে টাউনশিপ থেকে এসে এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় শামিল হয়েছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, রাথিডং ও বুথিডংয়ের অনেক মানুষ মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে প্রথমে সান্দা মাত ও পৌকতায় আসেন। অভিযোগ উঠেছে, আরাকানের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সাথে জড়িত একটি দালাল চক্র মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার ব্যবস্থা করে আসছিল।

প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা পর্যন্ত, বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে কোনো রোহিঙ্গা ওই নৌকায় ছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মূলত ঘটনাটি গত ২৯ জুন ঘটলেও ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত থাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবরটি সামনে আসতে বেশ কয়েক দিন সময় লেগেছে।

এই মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে, নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের খোঁজে রোহিঙ্গারা কতটা বাধ্য হয়ে, প্রতিনিয়ত প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে এমন বিপজ্জনক যাত্রায় পা বাড়াচ্ছেন।